তৃণমূল এবং কাশফুল

মাত্র একমাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটচিত্রের যেরকম আকস্মিক পরিবর্তন এসেছে তা ভারতের ইতিহাসে কখনো হয়েছে বলে মনে হয়না। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী এবং ব্যভিচারী তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে কাশফুলের মতো হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে তা কিছু লোকের অস্বাভাবিক মনে হলেও এটি হওয়ারই ছিল। আমার ১৩ জুলাই ২০২৩ সালের প্রকাশিত “আদর্শহীন রাজনীতি” নিবন্ধে একদম এই জিনিসটারই ভবিষ্যৎবানী করেছিলাম —

……এই “Anti” দলগুলি তত দিনই টিকবে যতদিন এরা ক্ষমতায় আছে, কারণ তারা যে দলের বিপক্ষ হয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা বর্তমানে ক্ষমতায় নেই অর্থাৎ তাদের কাছে ওই দলের বিরুদ্ধে বলার নতুন কথা আস্তে আস্তে সীমিত হয়ে উঠবে এবং একসময় যখন তারা আর ক্ষমতায় থাকবে না, তারা আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিশে যাবে। ……… তবে দিন শেষে সেই আদর্শবাদী দলগুলিই টিকে থাকবে।

ভারতের জনগণ এমন স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্থ এবং মানসিক ব্যধিগ্রস্থ দল আর কখনও দেখেনি। আশা করি আর দেখতেও হবেনা। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই দলটির নিয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় লেখা হয়ে থাকবে, “একজন শাসকের কী কী করা উচিত নয়”। কালকে খবরে দেখলাম, তৃণমূলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল দল ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এখন তারা তৃণমূল প্রতীকের আসল মালিক। অর্থাৎ, পদ গেলো, ক্ষমতা গেলো, দল গেলো, প্রতীক গেলো, আর কী বাকি আছে?

এমন কোন দুর্নীতি নেই যে দলটি করেনি। দলের বড় নেতা থেকে চুনোপুঁটি সবাই কোন না কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে আছে। তাই মাঝে মাঝে ভাবি এমন কি বলা যেতে পারে, তৃণমূলের সব সদস্য চোর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত? যে দল আর.জি.কর ধর্ষণ-খুন ঘটনাটি সুন্দর ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যে দল প্রাথমিক এবং SSC দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে, যে দল অতি মূল্যবান খনিজ সম্পদ চুরি এবং পাচার করেছে তাদের কোন সদস্য বা সমর্থক কি সত্যিই দাবি করার অধিকার রাখে যে তারা ভালো মানুষ? কোন রাজনৈতিক দলই ধোয়া তুলসী পাতা নয়, সে বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টিই হোক না কেন, সব দলই তাদের শাসনকালে এমন অনেক কাজ করেছে যা তাদের নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। কিন্তু একটি দলের বা শাসকের খারাপ কাজ দিয়ে অন্য দলের বা শাসকের খারাপ কাজকে নৈতিক বলে প্রতিপাদিত করা যায়না। সাম্প্রতিককালে পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন কোন বেআইনি বা অনৈতিক কাজ নেই যার সাথে তৃণমূলের কোন না যোগ নেই। এমন নয় যে এগুলো কোন ধরনের জল্পনা, প্রতিটিই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

যদি কোন ব্যক্তি সব দুর্নীতির এবং অপরাধের কথা জানার পরেও তৃণমূলকে সমর্থন করে বা অতীতে করেছে আর তার পরেও নিজেকে ভদ্র এবং নিষ্কলঙ্ক বলে দাবি করে তবে বলা যেতেই পারে ওই ব্যক্তি নির্লজ্জতা এবং অজ্ঞতার নতুন সীমা তৈরি করেছে।

যে দলের প্রধান দাবি করে প্রতিটি ধর্ষণের, গনধর্ষণের ঘটনা “ছোট” ঘটনা তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করা উচিত “বড়” ঘটনা কোনটি? পৃথিবীতে এসে কোন বিশাল উল্কা ধাক্কা মেরে পৃথিবী ধ্বংস করে দিলে তা কি বড় ঘটনা বলে ধরা যাবে, নাকি বড়জোর সেটি একটি “মাঝারি” ঘটনা? আসলে প্রতিটি আদর্শহীন “Anti-পার্টি” ৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্র এবং সমাজের ক্ষতি হওয়া নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তাই হয়েছে!

✏️ শেষ সম্পাদনাঃ শুক্র, 5 জুন 2026 | 📎 লিঙ্ক
এক লেখাটি সম্পর্কে কোনো মতামত আছে 🤔? তাহলে আমাকে ইমেল পাঠান (নীচে দেওয়া আছে) কিংবা টুইটারে বা ফেসবুকে আমাকে @bauripalash মেনশন করে পোস্ট করুন 😺!

আমার লেখাগুলো বা অন্যকোনো কাজ ভালো লাগছে? তাহলে এক কাপ চা খাওয়ান

আরও পড়ুন